fbpx

তালেবানের সাথে আমাদের কোনো ঝগড়া নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন শনিবার বলেন, আফগানিস্তানে তালেবান কিংবা সরকার কারও সঙ্গে আমাদের কোনো ঝগড়া নেই।

ঢাকায় পর’রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আফগানি’স্তানে র‌্যাডিক্যাল ট্রান্সফর’মেশন এবং এই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আফগানি’স্তানে বিদেশি অধি’গ্রহণ ও প্রত্যাহারও আমাদের পর্যবে’ক্ষণে রয়েছে।

১৯৭৯ সালে সোভি’য়েত ইউনিয়নের অধিগ্রহণ এবং আফগান মুজাহিদের প্রতিরো’ধে ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত বাহিনী রিট্রিটে যায়। তারপর তালেবানরা ক্ষ’মতায় যায়। ২০০১ সালে যুক্ত’রাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো বাহিনী অধিগ্র’হণ কর’লে তালেবান ক্ষমতা থেকে অপসা’রিত হয়।

এদিকে আফগানিস্তানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির ‘জনগণের ইচ্ছার’ প্রতি ঢা’কার সমর্থন থাকবে বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বি’নতে শামস রোববার রাতে বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তা’নের জনগণের সঙ্গে আছি। আমরা অতীতেও আফগানিস্তানের জনগণের স’ঙ্গে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে আফগান জন’গণের রায়ের প্র’তি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’ গোটা পরিস্থিতি ঢাকা নিবিড়ভা’বে পর্যবেক্ষণ করছে জা’নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে’ আমাদের অবস্থান।’

ঢাকার তরফে এটাও বলা হয় যে, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়ো’জন। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য একত্রিত নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। আফগানি’স্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে অংশ নিতে দেশটির স’ঙ্গে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত থাকবে। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান সার্কের সদস্য হওয়ার সময়ও বাংলাদেশ সমর্থন দিয়েছিল। আফগানিস্তানে বাং’লাদেশের কূটনৈতিক মিশন ছিল। সোভিয়েত অধিগ্রহণের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মিশন প্রত্যা’হার করা হয়। দেশটিতে নিরাপত্তা পরি’স্থিতির উন্নতি হলে দূতাবাস চালু করবে বাংলাদেশ।

ঢাকার ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আফগানিস্তান তার নিজের গন্তব্য নিজেই নির্ধারণ করবে ব’লে দেশটির প্রেসিডেন্ট আ’শরাফ ঘানি যে মন্তব্য করেছেন; বাংলাদেশ একে স্বাগত জা’নায়। বাংলাদেশ এ-ও মনে করে, তালেবানরাও আ’ফগান সমাজের অংশ। ফলে দুপক্ষের মধ্যে দোহায় আলোচনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ সংস্থা হিসা’বে জাতিসংঘের অধিকতর ভূমিকা বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। সিল্করোডের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে আফগানিস্তা’নের অর্থনী’তির নতুন অবয়বও বাংলা’দেশ নিবিড়ভাবে পর্যবে’ক্ষণ করছে। আফগানিস্তানের ভৌগোলি’ক অখণ্ডতাও বাংলাদেশ বিশ্বাস করে।’

তিনি বলেন, ‘আফগানি’স্তানে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক আর্থ-সামাজিক অনেক বিষয়ে বাং’লাদেশ কাজ করতে আগ্রহী। তবে এসব কাজের পূর্বশর্ত হলো দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ঢাকায় আ’ফগানিস্তানের দূতাবাস রয়েছে। বিগত তালেবান আ’মলে ঢাকায় আ’গের সরকারের প্রতিনিধি ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ (সিডিএ) হিসাবে কা’জ ক’রেছেন। তালেবানের কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসেননি। ১৯৭১ সালে বাং’লাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান থেকে অ’নেক বাংলাদেশি আফগানিস্তানে পালিয়ে আশ্রয় নিলে আফ’গান জনগণ তাদের সাদরে গ্রহণ ক’রেন। স্বাধীনতার পর সত্তরের দশকে রেড’ক্রস ও ইউএনএইচসিআর আ’ফগান বিমান ভাড়া করে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশি’দের ফিরিয়ে আনে।

ফেসবুকে লাইক দিন