fbpx

যেসব আমলেই মিলবে কবুল হজের সাওয়াব!

গোনাহমুক্ত জীবনের অন্যতম উপায় আমল। হাদিসের পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কিছু গুরুত্ব’পূর্ণ আমলের কথা বলেছেন; যে’গুলোর বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দাহ’কে দান করবেন হজের সাওয়াব। হাদিসের বণনা’য় সে আমল’গুলো হলো-

১. বাবা-মার সেবা করা
বাবা-মার সেবা জেহাদের চেয়েও মূল্যবান ইবাদত। আর এ ইবাদতে রয়েছে হজে’র সাওয়াব। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদি’য়াল্লাহু আ’নহু ব’র্ণনা করেন, এক (সাহাবি) ব্য’ক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, ‘আমি জিহাদে-সংগ্রামে অংশ নিতে চাই, কিন্তু’ আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তো’মার বাবা-মা কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বলল, আমার মা জী’বিত।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর কাছে যু’দ্ধ-সংগ্রামে যেতে না পারার অপারগতা পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, ওমরাহ এবং যু’দ্ধ-সংগ্রামের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ে’র সেবা কর।’ (মাজমা’উজ জাওয়ায়েদ)

২. ইশরাকের নামাজ পড়া
ফজরের ফরজ নামাজ পড়ার পর নামাজের স্থানে বসে সূর্য ওঠা পর্যন্ত জিকির-আজকার করে ইশরাকের নামাজ পড়ায় রয়েছে হজের সাওয়াব। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাআতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যো’দয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লা’হর জিকির করলো, এরপর দুই রাকাআত নামাজ আদায় করলো, সে ব্যক্তি হজ ও ওমরাহর সওয়াব নিয়ে ফিরলো।’ (তিরমিজি)

৩. সকাল-সন্ধ্যায় জিকির করা
হজরত আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা’ করেন, আমরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলি, হে আল্লাহর রাসুল! ধনী ব্যক্তিরা সাওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা হজ করেন, আমরা হজ করি না। তারা সংগ্রাম-যু’দ্ধে শরিক হন, আমরা শরিক হতে পারি না। আরো আরো…।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমি কি তোমা’দের এমন আমলের কথা বলবো যেটা তোমরা করলে তাদের (হজ-জেহাদ) আমল করা চেয়ে বেশি সাও’য়াব পাবে? আর সেটা হলো- প্রতি নামাজের পর তোম’রা ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুল্লিাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আক’বার পড়।’ (মুসনাদে আহমাদ)

৪. জামাআতে নামাজ পড়া
হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করলো, সে যেন হজ করে আসলো। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেলো, সে যেন ওমরাহ করে আসলো।’ (তাবারানি)

৫. ফরজ নামাজ পড়তে মসজি’দে যাওয়া
হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা ক’রেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজের ঘ’র থেকে ওজু করে (মসজিদের দিকে) বের হয়, সেই ব্যক্তির সাওয়াব ইহরাম বাঁধা হাজির মতো হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, তারগিব)

৬. ভালো কথা শেখা ও শেখানো উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া
হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা ক’রেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়; সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারী ব্যক্তির মতো সাওয়াব পাবে।’ (তাবারানি)

৭. রমজানে ওমরাহ পালন
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা ‘করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানে ওমরাহ আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ্জ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (বুখারি, মুসলিম)

৮. মসজিদে কুবায় নামাজ পড়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্র’তা অর্জন করল, তারপর মসজিদে কুবায় এসে কোনো নামাজ আদায় করল, সে ওমরাহ করার সাওয়াব অর্জন করল।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

৯. জুমআর নামাজ পড়া
হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে অজু করে ফরজ নামা’জের উদ্দে’শ্যে বের হয়, সে ইহরাম বেঁধে হজে গমনকারীর মতো সাওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি শুধু সালাতুদ্দুহা (পূর্বাহ্নের নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে বের হয়, সে ওমরাহ আদায়কা’রীর মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (আবু দাউদ)

১০. মুসলমানের প্রয়োজন মেটানো
হজরত হাসান আল-বসরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমার বার বার হজ করার থেকেও উত্তম।’

সুতরাং মুমিন মুসলমা’নের উচিত, যারা হ’জ করার সামর্থ্য রাখে না; তারা যেন উল্লেখিত আমলগুলো বে’শি বেশি করে। আর এ আমলগুলো মাধ্যমেই পাবে হজ ও ওমরাহ করার সাওয়াব।

হজের সাওয়াব ও ফজিলত স’ম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লা’ল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আ’ল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গোনাহের কাজ থেকে বির’ত থাকে, সে নবজা’তক শিশুর মতো নিস্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হজের পুরস্কারজান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে নির্দেশিত সহজ এ আমলগুলো বেশি বেশি করা’র মাধ্যমে হজের সাওয়াব লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ফেসবুকে লাইক দিন