fbpx

হিজরী বর্ষের হিসাব রাখার বিধান

আবু বকর সিদ্দীক


হিজরী সন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তারি’খ পদ্ধতি। এতে মাসের যে নাম ও ধারাবাহিকতা রয়েছে তা স্বয়ং মহান রাব্বুল আলামীন আসমান-যমীন সৃষ্টির শু’রুলগ্ন হ’তেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআনুল কারীমে এসেছে-
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারটি, যা আল্লাহর কিতাব (লাওহে মাহফুজ) অনু’যায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহ আকাশম’ণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটাই দীনের সহজ-সরল (দাবী)। সূরা তাওবা, আয়াত:৩৬

এছাড়া হিজরী সনের সঙ্গে অনেকগুলো ইবাদত সংশ্লিষ্ট রয়েছে, যার হিসাব না রাখলে ঐ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয় না।

যেমন: রোযা, হজ্ব ও যাকাত প্রভৃতি ইবা’দত। তাই সৌ’রবর্ষ ভি’ত্তিক হিসাব রাখা যদিও জা’য়েয; তথাপি ইসলামী শরী’য়তের অনেক বিধানাবলীর পালন যে’হেতু চন্দ্র মাসে’র উপর নির্ভরশীল, তাই ঐ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে পালনের নিমিত্তে চন্দ্র মা’সের হিসাব রাখা ফরযে কিফায়া। অতএব প্র’ত্যেক মুস’লিম সমাজের অন্তত কিছু মানুষ হলেও হিজরী সনের হিসাব রাখা চাই, যেনো সক’লের জন্য সহজে আমল করা সম্ভব হয়।

তবে এটি যেহে’তু আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লা’হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাহ; তাই মু’সলিম উম্মাহর প্রত্যেক সদস্যের জন্যই এর হি’সাব রাখা অ’ত্যন্ত পূ’ণ্যময় ও কল্যা’ণকর কাজ। এ বিষয়ে সমা’জের সর্ব’স্তরের মানু’ষের অবহেলা-উদাসীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক, যা কখনো কাম্য নয়।


লেখক: সহকারী মুফতি, জামিয়াতুল আসআদ আল-ইসলামিয়া রামপুরা ঢাকা।

ফেসবুকে লাইক দিন